বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬ | Wednesday, July 15, 2026
Homeঅস্ট্রেলিয়াবাংলাদেশ সোসাইটি ফর পূজা অ্যান্ড কালচার (BSPC) আয়োজিত সরস্বতী পূজা

বাংলাদেশ সোসাইটি ফর পূজা অ্যান্ড কালচার (BSPC) আয়োজিত সরস্বতী পূজা

বাংলাদেশ সোসাইটি ফর পূজা অ্যান্ড কালচার (বিএসপিসি) প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় গত ২৪ জানুয়ারি (শনিবার) সিডনির অদূরে ওয়েন্টওয়ার্থভিলের রেডগাম সেন্টারে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সরস্বতী পূজার আয়োজন করে। সকাল ১০টা থেকে রাত পর্যন্ত চলা এ অনুষ্ঠানে সিডনিসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিপুলসংখ্যক ভক্ত অংশগ্রহণ করেন।

সিডনির বিশিষ্ট পুরোহিত শ্রী বাসব রায়ের সঞ্চালনায় পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। ভক্তবৃন্দ বিদ্যাদেবী সরস্বতীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ ও প্রণামমন্ত্র পাঠ করেন। এরপর শিশুদের হাতেখড়ি অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি ছোট্ট সোনামনিদের জন্য একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়।

অপরাহ্নে শুরু হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে বিএসপিসি বাংলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা এবং সোসাইটির সদস্যবৃন্দ নৃত্য, সংগীত ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে আগত ভক্তদের জলযোগ, প্রসাদ, মধ্যাহ্নভোজ ও নৈশভোজে আপ্যায়ন করা হয়।

প্রতিবছরের মতো এবারও মন্দির ফান্ড সংগ্রহের লক্ষ্যে একটি র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে সোসাইটির সভাপতি সুরজিত রায় ও অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত সকল অতিথিদের ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যৎ আয়োজনে অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে আমন্ত্রণ জানান।

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, সরস্বতী পূজা হলো জ্ঞান, প্রজ্ঞা, শান্তি, সংগীত ও বাণীর অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীর চরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে বিদ্যা ও বুদ্ধির কৃপালাভের প্রার্থনা। এই পূজাকে ‘বাণী অর্চনা’ও বলা হয়। এটি চিন্তার সৃজনশীলতা ও জ্ঞানের সাধনার প্রতীক। বক্তারা উল্লেখ করেন, বর্তমান বিশ্বে তথ্যের প্রাচুর্য থাকলেও প্রকৃত জ্ঞানের অভাব রয়েছে। সরস্বতী পূজা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে প্রকৃত অগ্রগতি আসে বোধগম্যতা, সুবিচার ও জ্ঞানের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে—যা ছাত্র, পেশাজীবী এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের জন্য প্রাসঙ্গিক।

বক্তারা আরও বলেন, এ বছরের পূজা উদযাপন আনন্দ ও বেদনার সংমিশ্রণ। বর্তমান বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন, হত্যা ও সহিংসতার ঘটনায় তাঁরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেন যে অস্ট্রেলিয়ায় সবাই নির্বিঘ্নে ও নিরাপদ পরিবেশে ধর্মীয় আচার পালন করতে পারছেন। এই বিশেষ দিনে দেশে-বিদেশে সকল সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পুনরুদ্ধারের জন্য প্রার্থনা জানানো হয়।

সভাপতি তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে জানান, সিপিসিএল ও বিএসপিসির সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ব্ল্যাকটাউনে বহুল প্রতীক্ষিত ও স্বপ্নের মন্দির নির্মাণের জন্য একটি বৃহৎ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করে তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং পূজার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

পপুলার পোস্ট

নতুন কমেন্টস