মোহাম্মাদ আবদুল মতিন
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া | প্রকাশ: ৬ এপ্রিল ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন ইসলামিক প্র্যাকটিস অ্যান্ড দাওয়াহ সার্কেল (আইপিডিসি)-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘লিগ্যাসি অব ফেইথ’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা শায়খ আহমদুল্লাহ সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় আগমন করেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি প্রথমে মেলবোর্নে পৌঁছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা প্রদান করেন।
প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, তাঁর ৩ এপ্রিল মেলবোর্নের আল-তাকওয়া কলেজ, ৪ এপ্রিল সিডনির ডায়মন্ড ভেন্যুতে প্রধান কনভেনশন, ৬ এপ্রিল ক্যানবেরার ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার, ১০ এপ্রিল অ্যাডিলেডের উডভিল টাউন হল এবং ১১ এপ্রিল পার্থে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার কথা ছিল। এসব অনুষ্ঠানে ব্যাপক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে তিনি প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান।
তবে নির্ধারিত পূর্ণসূচি বাস্তবায়নের আগেই ৩ এপ্রিল মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত ‘লিগ্যাসি অব ফেইথ’ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পর শায়খ আহমদুল্লাহ তাঁর সফর সংক্ষিপ্ত করে অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করেন। তাঁর এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত প্রবাসী কমিউনিটিতে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
দি ডেইলি টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উগ্রবাদী বক্তা শায়খ আহমদুল্লাহ, যিনি পূর্বে ইহুদিদের বিশ্ব বিশৃঙ্খলার জন্য ‘পুতুলবানানোকারী’ ও “ঘৃণ্য” আখ্যা দিয়েছিলেন, চারটি নির্ধারিত বক্তৃতা অনুষ্ঠান শেষ করার আগে অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করেছেন। এপর্যায়ে তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। সিডনি থেকে দেশ ত্যাগ করার সময় তিনি যে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হওয়ার কথা ছিল, সেখানে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। (সূত্র: The Daily Telegraph)
একই সময়ে অস্ট্রেলিয়া সফররত আরেক বাংলাদেশি ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আযহারীর ভিসাও বাতিল করে তাকে দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে তার কিছু বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পরবর্তীতে তিনি ২ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করেন।
শায়খ আহমদুল্লাহর সফর সংক্ষিপ্ত করার বিষয়ে আয়োজক সংস্থা আইপিডিসি আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে। সেন্ট মেরিস মসজিদের ইমাম শায়খ আবু হুরায়রা আল-আজহারি বলেন, “এ বিষয়ে আমার নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য নেই।”
সংক্ষিপ্ত সফর সত্ত্বেও শায়খ আহমদুল্লাহ প্রবাসী বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির উদ্দেশে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন।
প্রথমত, তিনি ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক পরিচয়ের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন—বাংলাদেশি ও মুসলিম—এই দ্বৈত পরিচয়ই প্রবাসীদের শক্তি। অস্ট্রেলিয়ান সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও নিজস্ব শিকড় ও ধর্মীয় পরিচয় অক্ষুণ্ণ রাখা জরুরি।
দ্বিতীয়ত, তিনি সন্তানদের যথাযথ দ্বীনি শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রবাসে অর্থনৈতিক সাফল্যের পাশাপাশি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার ঘাটতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
তৃতীয়ত, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বড় দায়িত্ব পালনের পূর্বে আল্লাহ বান্দাকে পরীক্ষার মাধ্যমে প্রস্তুত করেন। প্রবাসী মুসলিম কমিউনিটির সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোকে সম্ভাব্য বৃহত্তর কল্যাণের পূর্বাভাস হিসেবে দেখতে তিনি আহ্বান জানান।
সামগ্রিকভাবে, সংক্ষিপ্ত হলেও শায়খ আহমদুল্লাহর এই সফর প্রবাসী বাংলাদেশি মুসলিম সমাজে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

