ড. রতন কুন্ডু, ২০ মার্চ, ২০২৬
ওহাইওর ১ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন প্রতিনিধি মি. গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান
আমেরিকার হাউস অব রিপ্রেজেন্টিটিভের ১১৯তম কংগ্রেসের ২য় অধিবেশনে
১৯৭১ সালের বাংলাদেশ গণহত্যাকে স্বীকৃতি প্রদান এবং বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা সংক্রান্ত মোশন আনয়ন করেন। প্রতিনিধি সভায় জনাব ল্যান্ডসম্যান নিম্নলিখিত প্রস্তাবটি পেশ করেন; যা পরবর্তীতে পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়।
পটভূমিঃ
১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে, যার ফলে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ গঠিত হয়, যার মধ্যে পাকিস্তান অন্তর্ভুক্ত ছিল পশ্চিম পাকিস্তান (পাকিস্তান) এবং পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ) নামক দুটি অসংলগ্ন অঞ্চল, যা তৎকালীন পূর্ববঙ্গ নামে পরিচিত ছিল।
-যেহেতু পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী প্রধানত পাঞ্জাবি পশ্চিম পাকিস্তানিদের দ্বারা গঠিত ছিল, যারা দেশের সম্পদ ও উন্নয়ন প্রচেষ্টা পশ্চিম পাকিস্তানে কেন্দ্রীভূত করেছিল;
-যেহেতু পশ্চিম পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বাঙালিদের নিকৃষ্ট জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে, তাদের মধ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত বাঙালি-বিরোধী মনোভাব পোষণ করত;
সূত্রঃ
ssavage on LAPJG3WLY3PROD with BILLS
VerDate Sep 11 2014 20:18 Mar 20, 2026 Jkt 069200 PO 00000 Frm 00001 Fmt 6652 Sfmt 6300 E:\BILLS\HR1130.IH HR1130ssavage on LAPJG3WLY3PROD with BILLS
-যেহেতু, ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে, শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের প্রতিশ্রুতিতে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল;
-যেহেতু পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি জেনারেল আগা মুহাম্মদ ইয়াহিয়া খান, পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং শেখ মুজিবুর রহমানের মধ্যে সরকার গঠনের আলোচনা ব্যর্থ হয়েছিল;
-যেহেতু, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে, পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবুর রহমানকে কারারুদ্ধ করে এবং পাকিস্তানি সামরিক ইউনিটগুলো, জামায়াতে ইসলামীর আদর্শে অনুপ্রাণিত উগ্রপন্থী ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সহযোগিতায়, পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ সাংকেতিক নামে একটি সাধারণ দমন অভিযান শুরু করে, যাতে বেসামরিক নাগরিকদের ব্যাপক গণহত্যা অন্তর্ভুক্ত ছিল;
-যেহেতু, এই নৃশংসতায় নিহতদের সংখ্যার অনুমান ভিন্ন ভিন্ন, তবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অনুমান অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা কয়েক দশ থেকে কয়েক লক্ষের মধ্যে;
যেখানে দুই লক্ষেরও বেশি নারী ধর্ষিত হয়েছিলেন এবং সামাজিক কলঙ্কের কারণে,
এর সঠিক সংখ্যা সম্ভবত কখনোই জানা যাবে না, কিংবা ভুক্তভোগীদেরও স্মরণ করা হবে না;
যেখানে, ১৯৭১ সালের ১৩ই জুন সানডে টাইমস-এ ‘গণহত্যা’ শিরোনামের একটি কলামে সাংবাদিক অ্যান্টনি
মাসকারেনহাস লিখেছিলেন, ‘‘২৫শে মার্চ সন্ধ্যায় যখন সেনাবাহিনীর ইউনিটগুলো ঢাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল, তাদের অনেকের কাছেই নির্মূল করার জন্য লোকজনের তালিকা ছিল’’;
অপরদিকে, ১৯৭১ সালের ২৮শে মার্চ, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাড ওয়াশিংটনে ‘‘নির্বাচিত গণহত্যা’’ শিরোনামে একটি টেলিগ্রাম পাঠান, যাতে তিনি লিখেছিলেন, ‘‘তাছাড়া, পাক সেনাবাহিনীর সমর্থনে, অ-বাঙালি মুসলমানরা
সূত্রঃ
HRES 1130 IH
VerDate Sep 11 2014 20:18 Mar 20, 2026 Jkt 069200 PO 00000 Frm 00002 Fmt 6652 Sfmt 6300 E:\BILLS\HR1130.IH HR1130ssavage on LAPJG3WLY3PROD with BILLS
⁃যেহেতু পরিকল্পিতভাবে গরিব মানুষের মহল্লায় হামলা চালাচ্ছে এবং
বাঙালি ও হিন্দুদের হত্যা করছে’’;
-যেহেতু, ১৯৭১ সালের ৬ই এপ্রিল, যা ‘‘ব্লাড টেলিগ্রাম’’ নামে পরিচিতি লাভ করে, কনসাল জেনারেল ব্লাড এই সংঘাতের বিষয়ে মার্কিন সরকারের নীরবতার প্রতিবাদে একটি আপত্তি পাঠান, যা ঢাকা কনস্যুলেট জেনারেলের ২০ জন মার্কিন কূটনৈতিক কর্মী দ্বারা স্বাক্ষরিত ছিল এবং যার অংশবিশেষে বলা হয়েছে, ‘‘কিন্তু আমরা হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এমনকি নৈতিকভাবেও, এই যুক্তিতে যে আওয়ামী সংঘাত, যেখানে দুর্ভাগ্যবশত ‘গণহত্যা’র মতো বহুল ব্যবহৃত শব্দটি প্রযোজ্য, তা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়। যদিও তাতে বেসরকারি আমেরিকানরা বিরক্তি প্রকাশ করেছেন এবং এই আপত্তিতে ব্লাডও সম্মতি জানিয়েছিলেন;
-যেহেতু, ১৯৭১ সালের ৮ই এপ্রিল, কনসাল জেনারেল ব্লাড আরেকটি টেলিগ্রাম পাঠান যার অংশবিশেষে বলা হয়েছে, ‘‘বিশেষ আচরণের জন্য হিন্দুদের এই নগ্ন, পরিকল্পিত এবং ব্যাপক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ‘গণহত্যা’ শব্দটি সম্পূর্ণরূপে প্রযোজ্য।
অপরদিকে, সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির শরণার্থী ও পলাতকদের সম্পর্কিত সমস্যা তদন্ত উপকমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর এডওয়ার্ড এম. কেনেডি, ১৯৭১ সালের ১ নভেম্বর কমিটিতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, যেখানে বলা হয়েছে, ‘‘২৫শে মার্চের রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত পরিকল্পিত সন্ত্রাস অভিযান—এবং এর গণহত্যাজনিত পরিণতি—এর চেয়ে স্পষ্ট বা সহজে নথিভুক্ত করার মতো আর কিছুই নেই। মার্কিন সরকারের কাছে পাঠানো মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন, অসংখ্য প্রত্যক্ষদর্শীর সাংবাদিক বিবরণ, বিশ্বব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন, এবং উপকমিটির কাছে থাকা অতিরিক্ত তথ্য—পূর্ব বাংলাকে গ্রাস করে থাকা এই চলমান সন্ত্রাসের রাজত্বকে নথিভুক্ত করে।’’ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা, যাদের জমি ও দোকানপাট লুট করা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং কিছু কিছু জায়গায় ‘H’ চিহ্নযুক্ত হলুদ ছোপ দিয়ে রাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সবকিছুই ইসলামাবাদ থেকে সামরিক আইনের অধীনে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন, আদেশ এবং বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ১৯৭২ সালে প্রকাশিত ‘পূর্ব পাকিস্তানের ঘটনাবলী’ শীর্ষক একটি আইনগত গবেষণায়, আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞ কমিশনের সচিবালয় উল্লেখ করেছে, ‘অকাট্য প্রমাণ রয়েছে যে হিন্দুদের হত্যা করা হয়েছিল, এবং তাদের ঘরবাড়ি ও গ্রাম ধ্বংস করা হয়েছিল শুধুমাত্র এই কারণে যে তারা হিন্দু ছিল।
অপরপক্ষে, গণহত্যা প্রতিরোধ ও শাস্তি সংক্রান্ত জাতিসংঘ সনদ ঘোষণা করে যে গণহত্যা মানে কোনো জাতীয়, নৃতাত্ত্বিক, বর্ণগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করার অভিপ্রায়ে সংঘটিত নিম্নলিখিত যেকোনো কাজ এবং
⁃যেহেতু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে, ভুক্তভোগীদের স্মৃতি সংরক্ষণে এবং ভবিষ্যতের নৃশংসতা প্রতিরোধ করার জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং গণহত্যা স্মরণ ও নথিভুক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: এখন, অতএব, এই মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো যে, প্রতিনিধি পরিষদ—
(১) ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত নৃশংসতার নিন্দা জ্ঞাপন করছে।
(২) পাকিস্তানি সেনাবাহিনী
এবং তাদের ইসলামপন্থী মিত্ররা ধর্ম ও
লিঙ্গ নির্বিশেষে জাতিগত বাঙালিদের নির্বিচারে গণহত্যা করেছে, তাদের রাজনৈতিক নেতা, বুদ্ধিজীবী,
পেশাদার এবং ছাত্রদের হত্যা করেছে, এবং হাজার হাজার নারীকে তাদের যৌনদাসী হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করেছে তার সুবিচার দাবী করছে।
সূত্রঃ
HRES 1130 IH
VerDate Sep 11 2014 20:18 Mar 20, 2026 Jkt 069200 PO 00000 Frm 00004 Fmt 6652 Sfmt 6201 E:\BILLS\HR1130.IH HR1130ssavage on LAPJG3WLY3PROD with BILLS
(৩) বিশেষভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দুদের
গণহত্যার মাধ্যমে নির্মূল করার জন্য লক্ষ্যবস্তু করেছিল গণহত্যা, গণধর্ষণ, ধর্মান্তরকরণ, এবং জোরপূর্বক দেশত্যাগে বাধ্য করেছে তা আমলে নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সিদ্ধান্তের আহ্বান জানাচ্ছে।
তিনি উল্লিখিত অপরাধ আমলে নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী এবং জামায়াতে ইসলামীতে তার মিত্রদের দ্বারা জাতিগত বাঙালি হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং গণহত্যা হিসাবে স্বীকৃতি দিতে আহ্বান জানান।
সূত্রঃ ইন্টারনেট

