গত ১৫ ই মার্চ ২০২৪ নৃত্যান্জলী ডান্স একাডেমী উপমহাদেশের তথা বৈশ্বিক সনাতনী সংস্কৃতিঃ হোলি কিংবা বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছিলো সিডনির নৃত্যান্জলী ডান্স একাডেমীর হল রুমে। একাডেমীর কর্ণধার রাজেশ ও মৌসুমী সাহা দীর্ঘদিন ধরে এ উৎসবটি পালন করে আসছে। জাতি ধর্ম গোত্র সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবাই এ উৎসবে সামিল হয়। এবার রমজান মাসে এ উৎসব হওয়াতে নৃত্যান্জলী ডান্স একাডেমী একাধারে ইফতার ও হোলি ইভেন্ট চমৎকার ভাবে মিশেল করে এক অনবদ্য বাঙালী সংস্কৃতির নতুন ধারা সূচনা করেছে।
সারাদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানে ছিলো ব্যাপক আয়োজন। দুপুরে নৃত্যান্জলীর গোপীনিরা ধর্মীয় পর্ব সম্পন্ন করেন। বিকেলে শুরু হয় রং এর মেলা। আগত অতিথিরা একে অপরকে রং দিয়ে তাদের মুখমন্ডল রন্জিত করে। ছিলো পিচকিরি দিয়ে রঙের খেলা। এরপর গোপিনীরা হোলির গানের সাথে হোলিনৃত্য পরিবেশন করেন। এরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। সাংস্কৃতিক পর্বটি গ্রন্থনা ও উপস্থাপনা করেন সংগঠনের উপদেষ্টা রতন কুন্ডু। অনুষ্ঠানে স্বাগত সংগীত পরিবেশন করেন নৃত্যান্জলী ডান্স একাডেমির প্রান পুরুষ রাজেশ সাহা। নৃত্য পরিবেশন করে ছোট্ট সোনামনি শুদ্ধ স্বরধ্বনি, এরপর নৃত্য পরিবেশন করেন নৃত্যান্জলী ডান্স একাডেমির কর্ণধার মৌসুমী সাহা ও আরাধ্যা দেব। সংগীত পরিবেশন করেন নিলুফা ইয়াসমিন, জ্যোতি বিশ্বাস, ঝুটন আচার্যি, শংকর দাস, অনুলেখা পন্ডিত সহ অনুষ্ঠানে আগত অন্যান্য অতিথিরা। স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন ঐকতান অস্ট্রেলিয়ার কর্ণধার দেবী সাহা।
অপরাহ্নে ঐতিহ্যবাহী ঘোল, কেক ও মিষ্টান্নের সাথে জলযোগের ব্যবস্থা ছিলো। বিকেলে রোজদারদের জন্য ছিলো পানীয় ফলাহার সহ হরেক রকম ইফতারীর ব্যবস্থা। রাতে অতিথিদের জন্য ছিলো অষ্টপদী নৈশভোজের ব্যবস্থা।
ভারতবর্ষের বিভিন্ন হিন্দু ঐতিহ্যেই হোলি উৎসবের সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে। এটি একটি উৎসবমুখর দিন যখন একজন তার অতীতের ভুলগুলো ভুলে যায়। এই দিনে মানুষেরা একে অপরের মধ্যকার ঝগড়া-বিবাদ মিটমাট করে ফেলে, এই দিনে তারা এসব ঝগড়া বিবাদ ভুলে যায় ও ক্ষমা করে দেয়। তারা পুরনো ঋণ মাফ করে দেয়, এবং নতুন করে চুক্তি শুরু করে। হোলি উৎসব একই সাথে বসন্তের আগমন বার্তাও নিয়ে আসে। অনেকের কাছে এটা নতুন বছরের শুরুকে নির্দেশ করে। এটি মানুষের জন্য ঋতু পরিবর্তনকে উপভোগ করা ও নতুন বন্ধু বানাবার উৎসব।
দোলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাধা কৃষ্ণের অমর প্রেম কাহিনি।কোথাও অশুভকে হারিয়ে শুভ শক্তির জয়, আবার কোথাও ঘন প্রেমের আখ্যান, এই সবের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে দোল বা হোলির রঙ।
বসন্তের আগমনে পৃথিবী তার সকল দুয়ার খুলে দেয় , বইতে শুরু করে ফাগুন হাওয়া , মধুর অমৃত বাণী শোনা যায় কোকিলের কণ্ঠে , রঙের উচ্ছ্বাস জাগে অশোক – পলাশ শিমুলে , বেরিয়ে আসে শীতের খোলসে ঢুকে থাকা কৃষ্ণচূড়া , রাধাচূড়া , নাগলিঙ্গম , আর এসব ফুলে ফুলে ভ্রমর করে খেলা ; তখনই যেন প্রবল বিক্রমে আগমন ঘটে রাজাধিরাজের, ঋতুরাজ বসন্তের । পহেলা ফাল্গুন দিনটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মর্ত্যলোকে অভিষেক ঘটে ঋতুরাজের , আর তাকে স্বাগত জানাতে প্রকৃতি নেয় এক বর্ণিল সাজ।
গাছে গাছে জাগে নতুন পাতা , নতুন ফুলের সমারোহ। সবাই যেন মত্ত শীতের শুষ্কতাকে প্রাণপণে আড়াল করার চেষ্টায় । অবশ্য ফুল যদি নাও ফোটে , বসন্তের আগমনধ্বনিকে কোনোভাবেই চাপা দেয়া যায় না । কারণ কবি যে বলেই দিয়েছেন , ‘ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ বসন্ত ।
ব্রজ অঞ্চলে হোলির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে , যার মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যগতভাবে রাধা কৃষ্ণের সাথে যুক্ত স্থানগুলি : মথুরা , বৃন্দাবন, নন্দগাঁও , বারসানা এবং গোকুল যা হোলির মৌসুমে পর্যটন হয়ে ওঠে।
ভারত ও নেপালের বাইরে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের হিন্দুদের দ্বারা এবং সেইসাথে সুরিনাম , গায়ানা , ত্রিনিদাদ এবং টোবাগো , দক্ষিণ আফ্রিকা , মালয়েশিয়া , মরিশাস, ফিজি যুক্তরাজ্য , মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র , কানাডা , অস্ট্রেলিয়ার মতো বৃহৎ ভারতীয় উপমহাদেশীয় প্রবাসী জনসংখ্যার দেশগুলিতেও হোলি পালন করা হয়।

