(সুহৃদ সোহানের দেয়াল লিখন ইষৎ পরিমার্জিত)
অস্ট্রেলিয়ার বানিজ্যিক রাজধানী সিডনীর বাঙালিপাড়ার লাকেম্বা’র গ্রামীণ রেস্টুরেন্টের হল রুমে পালিত হলো বঙ্গবন্ধুর ১০৫ তম জন্মদিন উপলক্ষে দোআ আর ইফতার মাহফিল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি জনাব গাউসুল আলম শাহজাদা।
ইফতারের আগে দোআ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ অস্ট্রেলিয়ার ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হাবিব হাসান টুলু। দোআ শেষ ইফতার। ইফতারের পর ১৫ মিনিটের নামাজের বিরতি শেষে পুনরায় অনুষ্ঠান শুরু হয়।
রমজানের কারণেই অনুষ্ঠানের বক্তব্যের তালিকা ও সময় ছিলো খুবই পরিমিত।
বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেত্রী সানজিদা আকতার, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালেদ মাহমুদ চৌধুরী এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের ত্রাণ ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক জনাব আমিনুল ইসলাম। সবাই বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে, তাঁর জীবনের উপর সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করেন এবং দেশে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা ও মৌলবাদীদের উত্থানকে রুখে দেবার অঙ্গীকার করেন।
তাঁদের সাথে সুর মিলিয়ে সিডনীর আইকনিক ব্যক্তিত্ত্ব লেখক কলামিস্ট ও গবেষক ডঃ রতন কুণ্ডু দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন, সহিংসতা ও ৭১’এর পরাজিত শক্তির উত্থানকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে দ্রুত পদক্ষেপে নেবার জন্য ইউনুস সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
মঞ্চে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি ডঃ সিরাজুল হক, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক, কলামিস্ট ডঃ রতন কুণ্ডু, নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ডঃ আবুল হাসনাৎ মিল্টন, ডাঃ লাভলী রহমান, লেখক, স্ট্রাথফিল্ড কাউন্সিলর পৌনপূনিক কাউন্সিলর ও সমাজসেবক রাজ দত্ত, লেখক কলামিস্ট ডঃ কাইয়ুম পারভেজ প্রমুখ।
অডিটোরিয়ামকে আলোকিত করে আরও উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এনায়েতুর রহিম বেলাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল হোসেন,
বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক জাকি খন্দকার, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগ অস্ট্রেলিয়ার সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা নিলুফা ইয়াসমিন, নৃত্যাঞ্জলি ড্যান্স অ্যাকাডেমির প্রতিষ্ঠাতা মৌসুমী সাহা, আওয়ামীলীগ নেত্রী সেলিমা বেগম, আওয়ামীলীগ নেত্রী ফাহমিদা খন্দকার, কুমিল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসান মেহেদি, ছাত্রলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম রুবেল, এম আর খান সিজান।
উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিলো
বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি আব্দুল জলিল, সিডনীর তরুণ উপন্যাসিক ও আবৃত্তি শিল্পী আরিফুর রহমান, বাংলাদেশ রেডিওর সংগীত শিল্পী হোসাইন ইমরান, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অভিনেতা আশরাফ হোসেন, অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের মুস্তাফিজ তালুকদার মঞ্জু, একুশে মেলা উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী জনাব আব্দুল মতিন, বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী অমিয়া মতিন, বিশিষ্ট আইনজীবী নির্মাল্য তালুকদার, পুরোহিত ও সমাজ কর্মী বাসব রায়, অস্ট্রেলিয়া ফেডারেশন ফর রিলিজিয়াস মাইনরিটিস অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক অপু সাহা, কচুয়া উপজেলার সাবেক মেয়র নাজমুল স্বপন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি সালাহউদ্দিন মোল্লা। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আবৃত্তি শিল্পী গৌতম পাল ও দেবী সাহা দম্পতি সহ আরও অনেক নেতা কর্মী।
সংক্ষিত আলোচনা সভার পর ও নৈশ ভোজের আগে জন্মদিনের কেক কাটা হয়।
বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের দুটো কেক কাটার আগের মুহূর্তে নেতা কর্মীরা আবেগী হয়ে পড়েন। মুহুর্মুহু জয় বাংলা আর দলীয় শ্লোগানে কেঁপে ওঠে অডিটোরিয়ামের দেয়াল। আড়াই মিনিট ব্যাপী এই স্লোগানের নেতৃত্ব দেন ছাত্রলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম রুবেল।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন গাউসুল আলম শাহজাদা এবং দিদার হোসেন।
আর পুরো অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ববধানে ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান কচি এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সিডনীর সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আজাদ।
বক্তারা বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ তাঁর কর্মকাণ্ড ও বাংলাদেশের স্বাধীনতায় তাঁর অবদানের উপর বক্তব্য রাখেন। একই সাথে তারা বর্তমান বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর নাম নিশানা মুছে ফেলার জন্য সরকারের সন্ত্রাসী পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে প্রতিরোধের আহ্বান জানান । বঙ্গবন্ধুর স্বরূপ বিশ্লেষণে তাঁকে উদ্ধৃত করে বলেন
“ বিশ্ব আজ দুইভাগে বিভক্ত !
শোষক আর শোষিত !
আমি শোষিতের দলে ! ”
যখনই তাঁর কণ্ঠ থেকে উচ্চারিত হলো এই বাণী, তখনই তাঁর নামে বরাদ্দ হয়ে গেলো একটি বুলেট !
কিন্তু বুলেট দিয়ে কি রোখা যায় হিমালয়সম মানুষকে ?
তিনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কবি !
তিনি কলম দিয়ে নয়, তিনি কবিতা লিখতেন চোখের আগুন দিয়ে !
তাঁর চোখের আগুনে ছারখার হয়ে গিয়েছিলো পাকিস্তান নামক আবর্জনাময় একটি দেশ !
তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব !
তিনিই বাংলাদেশ। এক মুজিব লোকান্তরে লক্ষ মুজিব ঘরে ঘরে। নৈশভোজ শেষে জনাব শাহজাদা আগত অতিথিদের সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

