বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬ | Thursday, July 16, 2026
Homeঅস্ট্রেলিয়াসিডনির এনএসডব্লিউ পার্লামেন্টে বাংলাদেশের সাংবিধানিক শাসন সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনার

সিডনির এনএসডব্লিউ পার্লামেন্টে বাংলাদেশের সাংবিধানিক শাসন সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনার

মোহাম্মাদ আবদুল মতিন: আাংলাদেশে চলমান সাংবিধানিক শাসন সংকট, অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা ও আইনের শাসন নিয়ে গভীর ও বহুমাত্রিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) পার্লামেন্ট হাউসের জুবিলি কনফারেন্স হলে সোমবার অনুষ্ঠিত এ আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নেন খ্যাতনামা আইনবিদ, একাডেমিক, নীতিনির্ধারক ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ।

সেমিনারটির আয়োজন করে Federation of Bangladesh Associations Australia Inc (FBAA)। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট আইনজীবী ড. মো. সিরাজুল হক। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, সংবিধানের সর্বোচ্চতা ও আইনের শাসন রক্ষায় এমন আলোচনা অত্যন্ত জরুরি। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে অতিরিক্ত-সংবিধানিক শাসন স্বাভাবিক হয়ে উঠলে তা গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতাকে দুর্বল করে দেয়। ড. সিরাজুল হক বাংলাদেশের ১৯৭৫-পরবর্তী সাংবিধানিক ইতিহাসে বারবার ব্যত্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এসব অভিজ্ঞতা আজকের সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ম্যাকোয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এমেরিটাস অধ্যাপক প্রফেসর এম. রফিকুল ইসলাম।
“Current Constitutional Governance Crisis in Bangladesh: A Legal Postmortem” শীর্ষক প্রবন্ধে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে বিশদ আইনি বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। তিনি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কথিত পরামর্শমূলক মতামত, অনির্বাচিত সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এবং প্রস্তাবিত গণভোটের সাংবিধানিক দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

প্রফেসর ইসলাম বলেন, সংসদীয় অনুমোদন ছাড়া বড় ধরনের সাংবিধানিক ও আইনি পরিবর্তন সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। তাঁর মতে, সাংবিধানিক শাসন অবশ্যই আইনের ভিত্তিতে পরিচালিত হতে হবে, রাজনৈতিক সুবিধাবাদের ওপর নয়। মূল প্রবন্ধের পর অনুষ্ঠিত হয় একটি প্যানেল আলোচনা। এতে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ আলী, অধ্যাপক রতন কুন্ডু, অধ্যাপক মোল্লা হক, আল নোমান শামীম, অধ্যাপক টিটু সোহেল এবং ক্যামডেন কাউন্সিলর এলিজা আজাদ রহমান।

আলোচকরা সাংবিধানিকতা, গণতান্ত্রিক রূপান্তর, বিচার বিভাগের ভূমিকা, নির্বাচনি বৈধতা ছাড়া শাসনের ঝুঁকি এবং মৌলিক অধিকার ক্ষয়ের আশঙ্কা নিয়ে মত প্রকাশ করেন। একাধিক বক্তা বলেন, বিচারিক পর্যালোচনা সীমিত করা বা পূর্বাপর দায়মুক্তি আইন প্রণয়ন ভবিষ্যৎ শাসনের জন্য বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন আব্দুল জলিল, নুরুর রহমান খোকন, কায়সার আহমেদ, সেলিমা বেগম, আলমগীর মিঠু ও আমজাদ হোসেনসহ উপস্থিত অতিথিরা। প্যানেলিস্টরা তাঁদের প্রশ্নের জবাব দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাউসুল আলম শাহজাদা, মেহেদী হাসান কচি, আবুল বাশার রিপন, শাজাহান মিল্টন, এস এম দিদার হোসেন, বিলকিস জাহান, শামীম হোসেন শুভ, ইসমত আরা, সুহৃদ সুহান হক, আব্দুস সালাম, ফয়সাল আজাদসহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হাসান মেহেদী।

সবশেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কমিউনিটি নেতা গামা আব্দুল কাদির। তিনি সেমিনার আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত সকলকে কৃতজ্ঞতা জানান এবং বলেন, সংবিধান, বিচারিক স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা রক্ষায় এমন বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা প্রবাসেও অব্যাহত থাকা প্রয়োজন।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

পপুলার পোস্ট

নতুন কমেন্টস