গত ১১ই নভেম্বর ২০২৩ একাডেমী, তার বিশাল সদস্য পরিবার সহ সিডনির জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সব প্রগতিশীল বাঙালিদের অংশগ্রহনে সিডনির ১০৮ ল্যাকেম্বা স্ট্রীটে রাজেশ ও মৌসুমী সাহার বাসভবনে এক বর্নিল শ্যামা পূজার আয়োজন করে। একাডেমির কর্ণধার মৌসুমী সাহা জানালেন তাঁরা সিডনির শুদ্ধ ধারার সবাইকে নিয়ে দীর্ঘ দেরযুগেরও অধিককাল ধরে বিভিন্ন আয়োজন করে আসছে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী শ্যামা পূজা ও দীপাবলি অনুষ্ঠান। কার্তিক মাসের অমবস্যা তিথিতে শ্যামা বা কালী পূজা ও দীপাবলি অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালনের মাধ্যমে ভক্তের জীবনে কল্যাণের অঙ্গীকার নিয়ে পৃথিবীতে আগমন ঘটে দেবী শ্যামা বা কালীর। শ্যামা দেবী শান্তি, সংহতি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামের প্রতীক।
অনুষ্ঠান শুরু হয় সন্ধ্যা ছ‘টায়। অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনায় ছিলেন রাজেশ ও মৌসুমী সাহা। পূজা পরিচালনা করেন পুরোহিত বাসব রায়। পূজা উপলক্ষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়। অননুষ্ঠানটি গ্নন্থনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় ছিলেন ড. রতন কুন্ডু।এবারের পূজোয় শুধুমাত্র শ্যামা, রামপ্রসাদী, কাজী নজরুল, রবীন্দ্র, ডি এল রায় ও অতুল প্রাসাদের শ্যামা সংগীত পরিবেশিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই নৃত্যাঞ্জলি ডান্স একাডেমীর সঙ্গীত শিল্পীদের অংশগ্রহনে “মঙ্গল দ্বীপ জ্বেলে” সমবেত সংগীত পরিবেশিত হয়। নৃত্যাঞ্জলি ডান্স একাডেমীর নৃত্যাঞ্জলি টিমের নৃত্য -“রাধা ক্যায়সে না জানে” ও “বাংলাদেশের মেয়েরে তুই” গানের সাথে অংশগ্রহন করে একাডেমীর শিশু শিল্পীঃ তৃষা সরকার, রিয়ানা, অপরাজিতা, জারা হোসাইন ও ঈশিতা।
সংগীত পরিবেশন করেনঃ সিডনির বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী মধুমিতা সাহা, অনুলেখা পন্ডিত, সুবর্ণা তালুকদার ও কোলকাতা থেকে আগত স্বনামধন্য কন্ঠশিল্পী সুপর্ণা মুখার্জী। রতন কুন্ডুর লিখা “মধুবন্তী মা” কবিতাটি আবৃত্তি করেন বিশিষ্ট আবৃত্তিকার ও ইউ টিউবার -পলি ফরহাদ। কন্যা জায়া জননীর বন্চনা নিয়ে লিখা একটি কবিতা আবৃত্তি করেন আবৃত্তিকার নুসরাত জাহান স্মৃতি।
সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি ড. সিরাজুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক দিদার হোসাইন, বিশিষ্ট লেখক ও একাডেমিক ড. শাখাওয়াৎ নয়ন প্রমুখ। অনুস্ঠানে জাতি ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সিডনির বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যবৃন্দ, নারী উদ্যোক্তা, কাউন্সিলর, একাডেমিক ও সাংবাদিক মিলিয়ে কয়েকশো’ লোকের সমাগম হয়েছিলো এ শ্যামা পূজায়। প্রতিবছরের মত এবারে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রদীপ প্রজ্জালন ও ছোট্ট সেনামনিদের আতশবাজি খেলা।
পুরোহিত বাসব রায়ের মন্ত্রের জলদগম্ভীর উচ্চারণ, সুপর্ণা মুখার্জী ও মধুমিতা সাহার রাম প্রসাদী ও শ্যামা সংগীত, ছোট্ট সোনামনি-তিশা, জারা আর দিয়ার ধ্রুপদী নাচ অনুষ্ঠানে একটি একটি আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। তবলায় সংগত দিয়েছেন ছিলেন জন্মেজয় রায়, ও অন্যান্য সহ শিল্পী বৃন্দ। পূজোর নারু মোয়া সন্দেশ সহ সকল প্রসাদে ছিল অমৃতের স্বাদ। এ ছাড়াও সান্ধ্যকালীন চা, বাংলার ঐতিহ্যবাহী লুচি,ডাল, সবজি দিয়ে অপরাহ্নের জলযোগ ও হরেক ব্যন্জন দিয়ে সবাইকে নৈশভোজে আপ্যায়ন করা হয়।
সবশেষে মধ্যরাতে মৌসুমী ও রাজেশ সাহা আগত অতিথিদের সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। ভবিষ্যতেও এরকম আয়োজনের মাধ্যমে সিডনির শুদ্ধধারার সবার সাথে একসাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।






