শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬ | Saturday, May 16, 2026
Homeঅস্ট্রেলিয়াসিডনির নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টে বাংলাদেশের সাংবিধানিক শাসন সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনার

সিডনির নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টে বাংলাদেশের সাংবিধানিক শাসন সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনার

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সাংবিধানিক শাসন সংকট, অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা এবং আইনের শাসন নিয়ে গভীর ও বহুমাত্রিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) পার্লামেন্ট হাউসের জুবিলি কনফারেন্স হলে সোমবার অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক সেমিনারে খ্যাতনামা আইনবিদ, একাডেমিক, নীতিনির্ধারক এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনারটির আয়োজন করে Federation of Bangladesh Associations Australia Inc (FBAA)। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট আইনজীবী ড. মো. সিরাজুল হক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হাসান মেহেদী। স্বাগত বক্তব্যে ড. সিরাজুল হক সংবিধানের পবিত্রতা রক্ষা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সাংবিধানিক শাসন ব্যাহত হলে তা সুশাসনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতাকে দুর্বল করে। তিনি বাংলাদেশের ১৯৭৫-পরবর্তী সাংবিধানিক ইতিহাসে বারবার সংঘটিত ব্যত্যয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, এসব অভিজ্ঞতা বর্তমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ম্যাকোয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এমেরিটাস অধ্যাপক প্রফেসর এম. রফিকুল ইসলাম।
“Current Constitutional Governance Crisis in Bangladesh: A Legal Postmortem” শীর্ষক প্রবন্ধে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে বিশদ আইনি বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। তিনি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের আওতায় কথিত পরামর্শমূলক মতামত, অনির্বাচিত সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এবং প্রস্তাবিত গণভোটের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

প্রফেসর ইসলাম বলেন, সংসদীয় অনুমোদন ছাড়া বড় ধরনের সাংবিধানিক বা আইনি পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। তাঁর মতে, সাংবিধানিক শাসন অবশ্যই আইনের ভিত্তিতে পরিচালিত হতে হবে, রাজনৈতিক সুবিধাবাদের ওপর নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্দিষ্ট এজেন্ডাভিত্তিক গণভোটের সিদ্ধান্ত সংসদে পাস না হলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাংবিধানিকভাবে বৈধ নয়। কোনো অধ্যাদেশের ভিত্তিতে গণভোটের অনুমোদন দেওয়া হলে তা হবে অবৈধ ও অসাংবিধানিক।

মূল প্রবন্ধের পর অনুষ্ঠিত হয় একটি প্যানেল আলোচনা। এতে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ আলী, ড. রতন কুন্ডু, ড. মোল্লা হক, আল নোমান শামীম, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক টিটু সোহেল এবং ক্যামডেন কাউন্সিলের কাউন্সিলর এলিজা আজাদ রহমান।
আলোচকরা সাংবিধানিকতা, গণতান্ত্রিক রূপান্তর, বিচার বিভাগের ভূমিকা, নির্বাচনি বৈধতা ছাড়া শাসনের গ্রহণযোগ্যতা এবং মৌলিক অধিকার হরণের আশঙ্কা নিয়ে মতামত ব্যক্ত করেন।

একাধিক বক্তা বলেন, বিচারিক পর্যালোচনা সীমিত করা বা পূর্বাপর দায়মুক্তি আইন প্রণয়ন ভবিষ্যৎ শাসনের জন্য বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এবং সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তা অকার্যকর হয়ে যায়। উদাহরণ হিসেবে তারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবার-পরিজনের হত্যাকারীদের দেওয়া ইনডেমনিটি আইনের কথা উল্লেখ করেন, যা পরবর্তীতে বাতিল হওয়ার পর অনেক অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর হয়।

প্রশ্নোত্তর পর্বে আব্দুল জলিল, নুরুর রহমান খোকন, কায়সার আহমেদ, সেলিমা বেগম, আলমগীর মিঠু ও আমজাদ হোসেনসহ উপস্থিত অতিথিরা অংশ নেন এবং প্যানেলিস্টরা তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গাউসুল আলম শাহজাদা, মেহেদী হাসান কচি, আবুল বাশার রিপন, শাজাহান মিল্টন, এস. এম. দিদার হোসেন, বিলকিস জাহান, শামীম হোসেন শুভ, ইসমত আরা, সুহৃদ সুহান হক, আব্দুস সালাম, ফয়সাল আজাদসহ প্রবাসী কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

সবশেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কমিউনিটি নেতা গামা আব্দুল কাদির। তিনি সেমিনার আয়োজনে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সংবিধান, বিচারিক স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা রক্ষায় প্রবাসেও এ ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

পপুলার পোস্ট

নতুন কমেন্টস