বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬ | Wednesday, July 15, 2026
Homeঅস্ট্রেলিয়াস্মৃতির খাতায় আঁকা দিন: অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ড ৮৮ প্যানেলের পুনর্মিলনীতে ফিরে দেখা কৈশোর

স্মৃতির খাতায় আঁকা দিন: অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ড ৮৮ প্যানেলের পুনর্মিলনীতে ফিরে দেখা কৈশোর

“পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কি রে হায়…”
এই গানের সুর যখন ভেসে এলো সিডনির পেনরিথের অর্চাডহিল মেসোনিক সেন্টারের আকাশে, তখন যেন মুহূর্তেই সময় থমকে গেল। ফিরে এলো সেই কৈশোর, সেই বেঞ্চ ভাগাভাগি, সাদা-কালো হাসির দিনগুলো। সারাবাংলা ৮৮ অস্ট্রেলিয়া প্যানেল– ১৯৮৮ সালের এসএসসি ব্যাচের বন্ধুদের প্রাণের এই মিলনমেলা হয়ে উঠেছিল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এক আবেগঘন উৎসব।

১০ মে, শীতল বাতাসে মোড়ানো এক রৌদ্রছায়াময় দুপুরে আয়োজনটি শুরু হয়। পেনরিথের অর্চাডহিল মেসোনিক সেন্টারের আঙিনা ছিল এক প্রাণবন্ত বন্ধুত্বের উৎসবে পরিণত। কেউ দীর্ঘদিন পর দেখেছেন ক্লাসের বন্ধুকে, কেউ আবার সন্তানকে দেখিয়েছেন নিজের ছোটবেলার গল্পের সঙ্গীদের।

বন্ধুদের উষ্ণ আলিঙ্গন, সরল খুনসুটি, একসঙ্গে গান গাওয়া, অট্টহাসিতে মিলিয়ে যাওয়া সময়—সব মিলিয়ে দিনটিকে মনে হচ্ছিল ঠিক যেন ৮০’র দশকের কোনো স্কুল ফাংশনে ফিরে যাওয়া।

গানের সুরে বোনা স্মৃতি:
অনুষ্ঠানের প্রাণ ছিল সংগীত পরিবেশনা। আমিত ও তার বন্ধুদের ব্যান্ড পরিবেশন করে একের পর এক হৃদয়ছোঁয়া গান।
আনিস ও তার স্ত্রীর দ্বৈত সংগীত পরিবেশনায় উপস্থিত সকলে মুহূর্তেই ফিরে যান প্রেমের সেই শুরুর দিনে।
বন্ধুরা—বীটা, রীতা, নীলুফা, কাকলি, বন্না—সবাই যার যার কণ্ঠে ও হৃদয়ে নিয়ে আসেন নিজ নিজ গল্পের সুর। গান ছিল শুধু সুর নয়, ছিল গল্প, ছিল আবেগ, ছিল শিকড়ের টান।
ভোজন-বন্দনায়ও ছিল আন্তরিকতার ছোঁয়া:

বন্ধু শামীমা-র উদ্যোগে আয়োজিত খাবার ছিল গৃহসুলভ স্বাদের এক চমৎকার মিলন। প্রতিটি পদেই ছিল ভালোবাসা আর আতিথেয়তার ছাপ। বন্ধুরা যেন স্বপ্ন ছুঁয়ে খাচ্ছিলেন শৈশবের সেই টিফিন বক্সের স্বাদ।
বন্ধুত্বের বুননে যারা ছিলেন নেপথ্যের নায়ক:
পুরো আয়োজনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় ছিলেন আমিত, আনিস, সানদিদ, সালমা, সোহেল ও আরও অনেক বন্ধু, যারা নিঃশব্দে কাজ করে গেছেন দিনের হাসি ও আনন্দ নিশ্চিত করতে।
সাহাবুদ্দিন এই মিলনমেলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যানারের স্পন্সর করেন, আর বন্ধু আশেক এর ডিজাইনে তৈরি সেই ব্যানার হয়ে ওঠে সেলফির প্রিয় ব্যাকড্রপ।

দিনশেষে একটাই উপলব্ধি—বন্ধুত্ব হারায় না কখনও:
এই পুনর্মিলনী ছিল কেবল একটি অনুষ্ঠানের চেয়েও বেশি কিছু—এটি ছিল আত্মার পুনর্মিলন, স্মৃতির পুনর্জন্ম, বন্ধনের পুনর্ব্যাখ্যা। অনেকে চোখ মুছেছেন হেসে, আবার কেউ চুপচাপ তাকিয়ে থেকেছেন ক্লাসমেটের মুখের দিকে—সময়ের স্তর ভেদ করে যেন খুঁজেছেন সেই ১৫-১৬ বছরের কিশোরটিকে।

সারাবাংলা ৮৮-এর এই আয়োজন প্রমাণ করে দিল—সময় চলে যায়, স্থান বদলায়, কিন্তু যাদের সঙ্গে শিখেছি জীবন, তারা কখনও পুরনো হয় না।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

পপুলার পোস্ট

নতুন কমেন্টস