সিডনি ২৭ আগস্ট, ২০২৩: নিউজিল্যান্ড বঙ্গবন্ধু পরিষদ এবং নিউজিল্যান্ডস্থ বাংলাদেশ কনসুল যৌথভাবে গত ২০ই আগস্ট, ২০২৩, রবিবার অকল্যান্ডের “মাউন্ট আলবার্ট হল” এ ভাবগম্ভীর পরিবেশে এবং যথাযথ মর্যাদায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদৎ বার্ষিকী এবং ‘জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে।
বঙ্গবন্ধু পরিষদ নিউজিল্যান্ড শাখার আহবায়ক কমিটির আহবায়ক ডঃ মোহাম্মাদ আব্দুর রশীদের সভাপতিত্ত্বে এবং সদস্য সচিব প্রকৌশলী আফজালুর রহমান রনির সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অকল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশ সরকারের ‘অনারারী কনসাল’ প্রকৌশলী সফিকুর রহমান ভুঁইয়া অনু।
বঙ্গবন্ধুর ৪৮ তম শাহাদৎ বার্ষিকী এবং ‘জাতীয় শোক দিবস’ উপলক্ষে মাননীয় রাষ্ট্র পতি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বানী পাঠ করেন প্রকৌশলী আফজালুর রহমান রনি। বঙ্গবন্ধুর উপর বিষয় ভিত্তিক বিশেষ প্রবন্ধ পাঠ করেন অনারারী কনসাল প্রকৌশলী সফিকুর রহমান ভুঁইয়া অনু এবং ডঃ মোহাম্মাদ আব্দুর রশীদ। বঙ্গবন্ধুর জীবনী ভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করেন প্রকৌশলী আফজালুর রহমান রনি।
আলোচনা সভার শুরুতেই ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের কালরাতে সপরিবারে শাহাদাৎ বরণকারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এবং অন্যান্য শহীদদের, ঢাকার কেন্দ্রিয় কারাগারে ৪ জাতীয় নেতার, ১৯৭১ -এর মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৫২- এর মহান ভাষা আন্দোলনসহ আজ পর্যন্ত সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহত শহীদদের স্মরনে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। তাঁদের সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দরূদ ও বিশেষ দোয়া করেন অনারারী কনসাল প্রকৌশলী সফিকুর রহমান ভুঁইয়া অনু।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা এবং কবিতা আবৃত্তি করেনডাঃ তাপস বড়ুয়া, কৃষিবিদ মোয়াজ্জাম হুসেন , শেখর গোমেজ, স্থপতি শাহীন হক, ডঃ জাহির আহমেদ, কাজী আহসান হায়াত, প্রকৌশলী মির্জা রাকিব, মনীষা জাহান মিলা এবং জাকির হোসেন।
সভায় বক্তারা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে অকালে হারানোর এই শোককে শক্তিতে পরিণত করে, জাতির পিতার স্বপ্ন – দুর্নীতি মুক্ত, শোষণ হীন স্পমাজ তথা সোনার বাংলা গোড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। হুমকি নিয়ে সারাজীবন বাংলা-বাঙালির পক্ষে রাজনীতি করেছেন। কোন লোভ-লালসা তাকে নীতিচ্যুত করতে পারেনি। পাকিস্থানীদের শোষণ, অত্যাচার ও পরাধীনতার শৃঙ্খল হতে মুক্তির লক্ষে বঙ্গবন্ধু সাত কোটি বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করে ধারাবাহিক সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন।
বঙ্গবন্ধু ছিলেন এক বিশাল মহীরুহ! তাই উনার কীর্তির কথা বলে শেষ করা যাবে না। অসীম সাহস, বিশাল ত্যাগ, দীর্ঘ সংগ্রাম ও বাঙ্গালী-বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা – বঙ্গবন্ধুকে বাঙ্গালী জাতির পিতা, সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী এবং মহাকালের মহানায়কে পরিনত করেছে।
সভায় বক্তারা বলেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা বাঙ্গালী জাতিকে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশকে আজ মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাই বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শকে মনে-কথায়-কাজে বাস্তবায়ন করে, বঙ্গবন্ধু’র স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে — বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে, তাঁর নেতৃত্বে, বেঈমান–মীরজাফর মুক্ত, ডিজিটাল উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন।

