সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫০ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সংগঠনটি সমস্ত অঙ্গসংগঠন, বঙ্গবন্ধু পরিষদ সহ সিডনির প্রগতিশীল সব সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে জাতির জনকের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করলো। গত ১৬ ই আগস্ট ২০২৫ ল্যাকেম্বা লাইব্রেরী হলে এ আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু তনয়া গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। বিশেষ অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালী বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ- মিসেস সানজিদা খানম। লাইব্রেরী হল তখন কানায় কানায় পূর্ণ। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত ল্যাকেম্বার লাইব্রেরী হল। সবাই এসেছেন নেত্রীর দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য শোনার জন্য।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ড. সিরাজুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি ডঃ নুরুর রহমান খোকন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান তরুণ, সমাজকর্মী ও আইনজীবী কাউন্সিলর রাজ দত্ত, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী মিসেস কোহিনূর খান, বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল, লেখক,কলামিস্ট, গবেষক ড. রতন কুন্ডু, আওয়ামীলীগের বর্ষীয়ান নেতা এবং সমাজসেবক গামা আব্দুল কাদির ও শিক্ষাবিদ, কলামিস্ট এবং অনলাইন এক্টিভিস্ট ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন। মন্চে আরও উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক জনাব গাওসুল আলম শাহজাদা ও সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান কচি।
প্রথমেই ১৫ই আগস্টে নিহত সবার প্রতি সম্মান রেখে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এরপর পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত এবং ১৫ই আগস্ট নিহত সবার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন অস্ট্রেলিয়া আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাবিব হাসান টুলু।
এরপর গীতার অমর বাণী এবং তার সারাংশ শোনান অস্ট্রেলিয়া আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা ড. রতন কুন্ডু।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ছাত্রলীগ নেতা চৌধুরী মিকু চৌধুরী এবং আমিনুল ইসলাম রুবেল তাঁদের স্বাগত ভাষণ দেন।
যুবলীগ নেতা আল নোমান শামীম খুব গোছানো ভাষায় অনুত্তেজিত কণ্ঠে তাঁর বক্তৃতায় বর্তমান অবৈধ সরকারের বর্বরতা তুলে ধরেন। চমৎকার এবং স্বল্পভাষায় বঙ্গবন্ধুর কাজের পরিধি তুলে ধরেন মেলবোর্ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ড. মোল্লা হক। ড. হক ১০০০ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে মেলবোর্ন থেকে সিডনী ছুটে এসেছেন সবার সাথে একাত্মতা ঘোষণা করতে। তিনি একটি স্লাইড শো প্রদর্শন করেন। ডঃ হক এবং অস্ট্রেলিয়া আওয়ামীলীগের তরুণ এবং তুখোড় নেতা, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক দিদার হোসেন পালন করেছেন সুপার ইম্পোজ, গ্র্যাফিক্স, আলোক প্রক্ষেপন এবং সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারের কাজ।
অনুষ্ঠানে মেলবোর্ন ও ক্যানবেরা আওয়ামীলীগের অনেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী নেতা ফিরোজ মোস্তফা খুব সংক্ষিপ্ত ভাবে ১৫ই আগস্টের তাৎপর্য তুলে ধরেন। এছাড়াও কথা বলেন মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী সুলতানা সুফিয়া মিতু।
সবাই আসলে অপেক্ষা করছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের জন্য ! অতঃপর এসে গেলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ অস্ট্রেলিয়ার সিনিয়র সহ সভাপতি জনাব গাউসুল আলম শাহজাদা টেলিফোনে যুক্ত করলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে। জনাব শাহজাদা এবং মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী বিলকিস জাহান প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতার পর মাইক্রোফোন তুলে দিলেন সভাপতি ড. সিরাজুল হকের হাতে। ড. হক এসময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান ও তাঁকে বক্তব্য রাখার জন্য আহ্বান জানান। নেত্রীর ভাষনের আগে ও পরে মুহুর্মূহু গগন বিদারী জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ভয় নাই রাজপথ ছাড়ি নাই স্লোগানে পুরো ল্যাকেম্বা কম্পমান হয়ে ওঠে। এর পরে পিন পতন নিস্তব্ধতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনা মূলক প্রায় ৩০ মিনিটের দীর্ঘ বক্তৃতা শোনেন আগত অতিথিরা।
শ্লোগানে নেতৃত্ব দেন অস্ট্রেলিয়া আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল বাসার রিপন, দিদার হোসেন, যুবলীগ নেতা আল নোমান শামীম, ছাত্রলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম রুবেল, সিজান খান ও ইমরুল হাসান।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর দীর্ঘ ভাষণে তাঁর পরিবারের প্রতি নৃশংসতার কথা, বর্তমান বাংলাদেশ পরিস্থিতি, মব কালচার, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, সংখ্যালঘু নির্যাতন ও হত্যা সংঘটিত করার জন্য অবৈধ ইউনূস সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি এই পাথর সময় থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে সবাইকে ধৈর্য্য সহকারে পরিস্থিতি মোকাবেলার আহ্বান জানান।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পরে সবাই এতোটাই আবেগাপ্লুত হয়ে যায় যে অনুষ্ঠানের নির্ধারিত বক্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা এনায়েতুর রহিম বেলাল, বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার সহ সভাপতি রফিক উদ্দিন, ঔপন্যাসিক শাখাওয়াৎ হোসেন নয়ন, অনিলা পারভীন, ডাঃ লাভলী রহমান, ফয়সাল আজাদ, জামাল হোসেন,হারুনুর রশিদ, আলম মোহাম্মদ, লাল্টু চেয়ারম্যান, জাকারিয়া আল মামুন স্বপন, প্রদীপ মাহমুদ, রিজভী শাওন, হাসান মেহেদী, আবু সুফিয়ান মন্থন, কবি আরিফুর রহমান বক্তব্য রাখতে পারেননি।
পরের পর্ব ছিলো পুষ্পার্ঘ অর্পণ।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সিডনী, বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়া, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ এবং সেচ্ছাসেবক লীগ অস্ট্রেলিয়ার নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান।
এরপর আগত অতিথিদের সবাইকে নৈশ ভোজে আপ্যায়ন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের পরিচয় পর্বটি পরিচালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক দিদার হোসেন ও বিলকিস জাহান।
অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ও তত্ত্বাবধানে ছিলেন গাউসুল আলম শাহজাদা, মেহেদী হাসান কচি ও দিদার হোসেন।

