গত ২৩শে মার্চ ২০২৪ নৃত্যান্জলী উপমহাদেশের তথা বৈশ্বিক সনাতনী সংস্কৃতি হোলি কিংবা বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছিলো সিডনির নৃত্যান্জলী ডান্স একাডেমী। একাডেমীর কর্ণধার রাজেশ ও মৌসুমী সাহা দীর্ঘদিন ধরে এ উৎসবটি পালন করে আসছে। জাতি ধর্ম গোত্র সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবাই এ উৎসবে সামিল হয়। এবার রমজান মাসে এ উৎসব হওয়াতে নৃত্যান্জলী ডান্স একাডেমী একাধারে ইফতার ও হোলি ইভেন্ট চমৎকার ভাবে মিশেল করে এক অনবদ্য বাঙালী সংস্কৃতির নতুন ধারা সূচনা করেছে।
ভারতবর্ষের বিভিন্ন হিন্দু ঐতিহ্যেই হোলি উৎসবের সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে। এটি একটি উৎসবমুখর দিন যখন একজন তার অতীতের ভুলগুলো ভুলে যায়। এই দিনে মানুষেরা একে অপরের মধ্যকার ঝগড়া-বিবাদ মিটমাট করে ফেলে, এই দিনে তারা এসব ঝগড়া বিবাদ ভুলে যায় ও ক্ষমা করে দেয়। তারা পুরনো ঋণ মাফ করে দেয়, এবং নতুন করে চুক্তি শুরু করে। হোলি উৎসব একই সাথে বসন্তের আগমন বার্তাও নিয়ে আসে। অনেকের কাছে এটা নতুন বছরের শুরুকে নির্দেশ করে। এটি মানুষের জন্য ঋতু পরিবর্তনকে উপভোগ করা ও নতুন বন্ধু বানাবার উৎসব।
দোলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাধা কৃষ্ণের অমর প্রেম কাহিনি।কোথাও অশুভকে হারিয়ে শুভ শক্তির জয়, আবার কোথাও ঘন প্রেমের আখ্যান, এই সবের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে দোল বা হোলির রঙ।
বসন্তের আগমনে পৃথিবী তার সকল দুয়ার খুলে দেয় , বইতে শুরু করে ফাগুন হাওয়া , মধুর অমৃত বাণী শোনা যায় কোকিলের কণ্ঠে , রঙের উচ্ছ্বাস জাগে অশোক – পলাশ শিমুলে , বেরিয়ে আসে শীতের খোলসে ঢুকে থাকা কৃষ্ণচূড়া , রাধাচূড়া , নাগলিঙ্গম , আর এসব ফুলে ফুলে ভ্রমর করে খেলা ; তখনই যেন প্রবল বিক্রমে আগমন ঘটে রাজাধিরাজের, ঋতুরাজ বসন্তের । পহেলা ফাল্গুন দিনটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মর্ত্যলোকে অভিষেক ঘটে ঋতুরাজের , আর তাকে স্বাগত জানাতে প্রকৃতি নেয় এক বর্ণিল সাজ । গাছে
গাছে জাগে নতুন পাতা , নতুন ফুলের সমারোহ । সবাই যেন মত্ত শীতের শুষ্কতাকে প্রাণপণে আড়াল করার চেষ্টায় । অবশ্য ফুল যদি না – ও ফোটে , বসন্তের আগমনধ্বনিকে কোনোভাবেই চাপা দেয়া যায় না । কারণ কবি যে বলেই দিয়েছেন , ‘ফুল ফুটুক আর না – ই ফুটুক আজ বসন্ত ।
হোলিকে হিন্দি, কন্নড়, মারাঠি, নেপালি, পাঞ্জাবি সবাই হোলি নামে আর তেলেগু,পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশে এবং আসমে বসন্ত উৎসব নামেও পরিচিত। আসামে এটিকে রঙের উৎসব বা দোল যাত্রা, নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলে ফাগু পূর্ণিমা, ওড়িশায় দোলা যাত্রা, ফাকুয়া বা ফাগওয়াহ এবং ভোজপুরীতে (পশ্চিম বিহার) ফাগুয়া নামেও পরিচিত । প্রথা এবং উদযাপন ভারতের অঞ্চলগুলির মধ্যে পরিবর্তিত হয়।
ব্রজ অঞ্চলে হোলির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে , যার মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যগতভাবে রাধা কৃষ্ণের সাথে যুক্ত স্থানগুলি : মথুরা , বৃন্দাবন, নন্দগাঁও , বারসানা এবং গোকুল যা হোলির মৌসুমে পর্যটন হয়ে ওঠে।
ভারত ও নেপালের বাইরে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের হিন্দুদের দ্বারা এবং সেইসাথে সুরিনাম , গায়ানা , ত্রিনিদাদ এবং টোবাগো , দক্ষিণ আফ্রিকা , মালয়েশিয়া , মরিশাস, ফিজি যুক্তরাজ্য , মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র , কানাডা , অস্ট্রেলিয়ার মতো বৃহৎ ভারতীয় উপমহাদেশীয় প্রবাসী জনসংখ্যার দেশগুলিতেও হোলি পালন করা হয়।

