অস্ট্রেলিয়াতে আরেকটি বাঙালীর শুদ্ধধারার সংগঠন “হাসন রাজা পরিষদ” গত ৯ই ডিসেম্বর ২০২৩ বাংলা জনপদের কিংবদন্তী লোকসংগীত শিল্পী হাসন রাজার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজন করেছিলো এক মহোৎসব। সিডনির ব্যংকসটাউনের ব্রায়ান ব্রাউন থিয়েটারে আয়োজন করেছিলো হাসন রাজা উৎসবের। হাসন রাজার বংশধর সিডনির শুদ্ধধারার প্রানপুরুষ ও শুদ্ধ সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক সোলায়মান আশরাফী দেওয়ান ও তাঁর স্ত্রী সিডনির বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, কয়েকটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মিডিয়া পার্সোনালিটি শ্রাবন্তী কাজী ছিলেন এর প্রধান উদ্যোক্তা। সার্বিক প্রযোজনা ও সহযোগীতায় ছিল পথ প্রোডাকশন অস্ট্রেলিয়া। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সোলায়মান আশরাফী দেওয়ান ও প্রাক্তন কাউন্সিলর শাহে জামান টিটু।
“দেশ ছেড়ে চলে আসা কিংবা অস্ট্রেলিয়ায় বড়ো হওয়া বাংলাদেশিদেরকে দেশের শেকড়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে এবং এখানে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে তাদের পূর্ব-পুরুষের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে সোলায়মান আশরাফী দেওয়ান ও শ্রাবন্তী কাজী এই ‘হাসন রাজা উৎসব’ এর পরিকল্পনা করেন।
হাসন রাজার উত্তরাধিকারী এই যুগল প্রবাসে বাংলাদেশের ভাষা, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে প্রবাসিদের নানা অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে সবসময় পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। সিডনিতে তাদের ‘অস্ট্রেলিয়ান ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাডেমি’ নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছ। হাসন রাজার স্মরণে অনুষ্ঠিত ‘হাসন রাজা উৎসব’ মূলত হাসন রাজার সৃষ্টি ও যাবতীয় অবদান সংরক্ষণ রাখার ও প্রজন্মকে পরিচিত করার একটি প্রয়াস।”
মুল অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করেছেন সিডনির প্রিয়মুখ, প্রিয়দর্শিনী তানিয়া। মন্চ ও ফটোবুথ ডেকরেশনে ছিলেন প্রথ্তযশা ডেকরেটর কানিতাস্ এর কানিতা ও তাঁর টীম। প্রাচীন জমিদার বাড়ির আবহে সাদা ঘোড়ার থীমে এক ধ্রুপদী চিত্রকল্প অনুষ্ঠানে একটি আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। মন্চসজ্জা, আলোক প্রক্ষেপণ, হাসন রাজার মুল বাড়ির ও সিলেটের হাওর অন্চলের দৃশ্য প্রক্ষেপণ একটি ধ্রুপদী আবহ তৈরী করে দর্শক শ্রোতাদের নস্টালজিক করে তোলে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সোলায়মান আশরাফী দেওয়ান ও শ্রাবন্তী কাজী হাসন রাজার বংশ পরিচিতি, তাঁর বর্ণাঢ্য সংগীত জীবন ও ততকালীন সংস্কৃতি পরিমন্ডলে তাঁর বিচরণের বিষদ বর্ণনা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানের প্রথম ভাগে স্থানীয় শিল্পীদের সংগীত ও পথ প্রোডাকশনের প্রযোজনায় তৎকালীন সময়ের একটি সত্য ঘটনার ছায়া অবলম্বনে একটি গীতি-নৃত্যনাট্য “কাল্পনিক পিন্জিরা” পরিবেশিত হয়। গানে অংশগ্রহন করেন সিডনির চারু শিল্পীগোষ্ঠীর আয়েশা কলি, আনিসুল হক ও রোখসানা দম্পতি, হাসন রাজার আরেক বংশধর, হাসন রাজা ফাউন্ডেশনের সভাপতিঃ এহসান রেজা। তিনি জানালেন যে বিজয়ের ডিসেম্বর মাসটি মরমী শিল্পী হাসন রাজার জন্ম ও মৃত্যুর মাসও। তাঁর পরপরই হাসন রাজার ও অন্যান্য লোকসংগীত নিয়ে আসেন একুশে পদকপ্রাপ্ত, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কিংবদন্তী সংগীত শিল্পী ইন্দ্রমোহন রাজবংশীর সহধর্মিনী দীপ্তি রাজবংশী। তিনি নিজেও জাতীয় পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন ও অনেকগুলো গানের এলবাম বের করেছেন। এরপরে আয়েশা কলি ও শ্রাবন্তী কাজী একটি গীতি নকশা উপস্থাপন করেন। একঝাঁক শিল্পীদের নিয়ে পথ প্রোডাকশনের “কাল্পনিক পিন্জিরা” নৃত্যনাট্যটি ছিলো অনবদ্য। লীড গিটার, বেস গিটার, কীবোর্ড, অক্ট্যাপ্যাড, বায়া-তবলা, জিপসী, মন্দিরা ও অন্যান্য যন্ত্রসংগীতে সংগত দিয়েছেন তমাল, রাসেল, শাহরিয়ার, হাসান, নীলাদ্রি, রাসনা, নামিদ ফারহান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশ থেকে আগত প্রথিতযশা ফোক সংগীতশিল্পী সেলিম চৌধুরী একে একে হাসন রাজার এবং অন্যান্য লোকসংগীত পরিবেশন করে দর্শক শ্রোতাদের বিমোহিত করেন। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে সম্মানিত শিল্পী সেলিম চৌধুরীকে ক্রেস্ট প্রদান করে সম্মানিত করেন বাংলাদেশ সরকারের কনসাল জেনারেল জনাব সাখাওয়াত হোসেন ও চ্যান্সেরী প্রধান কনসাল আশফাক হোসেন।
অনুষ্ঠান শেষে জনাব সোলায়মান দেওয়ান ও শ্রাবন্তী কাজী আগত অতিথিদের সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন।







