সিডনি ২০ আগস্ট, ২০২৩: গত ২০ অগাস্ট (রবিবার) বঙ্গবন্ধু পরিষদ সিডনির মিন্টোর রণমোর কমিউনিটি হলে শ্রদ্ধার সাথে জাতীয় শোক দিবস পালন করে। এই দিনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক, বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি ও বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮ তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন করেছে বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়া।
সংগঠনের সভাপতি ড. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারন সম্পাদক ড. প্রদীপ রায়হান এর সঞ্চালনায় শোক সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সম্মানিত কনসাল জেনারেল মোঃ শাখাওয়াৎ হোসেন।
অনুষ্ঠানে কি নোট স্পীকার ছিলেন বন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়া সাবেক সভাপতি, লেখক-কলামিস্ট ডক্টর রতন কুন্ডু। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্য কাহিনী নিয়ে হালনাগাদ তথ্য সম্বলিত একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাবেক সভাপতি এমেরিটাস প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলাম, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি, ড. সিরাজুল হক, বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি, কৃষিবিদ ড. নিজাম উদ্দিন আহমেদ, প্রাক্তন সভাপতি ড. খাইরুল চৌধুরী, ওয়েষ্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ডক্. মাসুদুল হক।
আরো উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এনায়েতুর রহিম বেলাল ও বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভাপতি মিজানুর রহমান তরুণ।
বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সূচনা হওয়ার পর ওয়েলকাম টু কান্ট্রি পাঠ করেন বর্তমান প্রজন্মের মেয়ে লামিস সৈয়দ। পবিত্র কোরান থেকে পাঠ করেন জনাব হাজী হারুন পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন ড: অরবিন্দ সাহা ও পবিত্র ত্রিপিটক থেকে পাঠ করেন জিনাশীষ বড়ুয়া।দোয়া পরিচালনা করেন হাজী হারুন।
বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার বাণী পাঠ করে শোনান সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ জনাব আব্দুস সোবহান। মহামান্য রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ করে শোনান সংগঠনের সহ-সভাপতি সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম। বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেরিত বাণী পাঠ করে শোনান সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জনাব রফিক উদ্দিন।
প্রধান বক্তা ডক্টর রতন কুন্ডু বঙ্গবন্ধুর হত্যার কুশিলবদের চিহ্নিত করে হালনাগার তথ্য সম্বলিত নিবন্ধটি উপস্থাপন করেন। তিনি মাননীয় মন্ত্রীর কাছে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। পলাতক খুনের আসামিদের খুঁজে বের করে দেশে এনে বিচারের রায় কার্যকর করা, অনতিবিলম্বে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে নেপথ্য কুশীলবদের বিচারের ব্যবস্থা করা। দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে স্বাধীনতা বিরোধীচক্র, প্রতিবিপ্লবী কমরেড ও ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী মুসলিম লীগের স্বপ্নদ্রষ্টাদের বহিষ্কার করা, অবিকৃতভাবে ৭২ এর সংবিধান ফিরিয়ে আনা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের নামে সংখ্যালঘু অত্যাচার বন্ধে সাইবার ক্রাইম ডিজিটাল সিকিউরিটি এক্ট এর পরিমার্জন ও সংশোধন করে অভিযুক্তদের স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে বিচারের ব্যবস্থা করা।
জীবন থেকে নেয়া পর্বে বঙ্গবন্ধুর জীবনের উপরে টুকরো টুকরো স্মৃতি নিয়ে আলোচনা করেন জনাব হারুনুর রশিদ, সংগঠনের প্রাক্তন সভাপতি ড. নিজাম উদ্দিন আহমেদ, বর্তমান সভাপতি ড. রফিকুল ইসলাম ও সাবেক সভাপতি ড. খাইরুল চৌধুরী। নির্মলেন্দু গুণের কবিতা আবৃত্তি করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি ড. তারিকুল ইসলাম ও বঙ্গবন্ধুর উপরে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন জনাব মুস্তাফিজ তালুকদার মঞ্জু। কনসাল জেনারেল শাখাওয়াৎ হোসেন তাঁর বক্তব্যে আগস্ট ট্রাজেডির সবার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে সবাইকে দেশে বিদেশে নিরলস কাজ করার আবেদন জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়া শাখার সভাপতি ড: সিরাজুল হক তাঁর বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা ও তাঁর তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনার নিরলস পরিশ্রম ও মেধা দিয়ে দেশকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়ার জন্য সাধুবাদ জানান। তাঁর ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নের জন্য প্রবাসী সকলকে আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বক্তব্যের শুরুতেই ১৫ ই আগস্ট এ জাতির জনককে সপরিবার এবং সবান্ধব হত্যার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন। তিনি ঐদিন নিহত সবার রুহুর মাগফেরাত কামনা করেন। ৭৫–এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ হত্যা এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী শান্তি সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে মানুষ হত্যায় জড়িত থাকায় জিয়া পরিবারের সম্পৃক্ততা দিবালোকের মতো স্পষ্ট। জিয়াউর রহমান ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করায় জাতির পিতাকে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ হত্যার পরও নিহতের স্বজনদের বিচার চাওয়ার কোনো অধিকার ছিল না, কোনো মামলা পর্যন্ত করা যায়নি। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে সব বিচারের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছিল।
তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে তারই সুযোগ্য তনয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রয়াস একে একে তুলে ধরেন। তিনি নির্বাচনে পশ্চিমা বিশ্বের হস্তক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানান। তাদের নিজস্ব দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শতশত কাহিনী থাকা সত্ত্বেও তারা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করছে। এটা সম্মিলিত জাতিসংঘের নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি সম্মিলিতভাবে সাম্রাজ্যবাদের নীল নকশা প্রতিহত করার জন্য সবাইকে উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি বিদেশে সাইবার অপরাধীদের ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার এবং কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন। তিনি বলেন আপনারা যাঁরা বিদেশে আছেন তাঁরা এক একজন এম্বাসেডর।আপনাদের কথা আপনাদের আত্মীয়-স্বজনেরা খুব মনোযোগের সাথে শুনে এবং পালন করে। আপনারা দেশে ফোন করে আত্মীয়-স্বজনদের কোন কথা বললে তারা সেটা অবশ্যই পালন করবে। তাদেরকে বোঝান শেখ হাসিনার সরকার বারবার দরকার। দেশের স্বার্থে উন্নয়নের স্বার্থে এগিয়ে যাওয়ার স্বার্থে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করুন।
আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। সমাপনী বক্তব্যে ড. রফিকুল ইসলাম আগত অতিথিদের আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি এই অনুষ্ঠানের সংগঠনের সব সদস্য, উপস্থিত আগত অতিথিবৃন্দ ও নেপথ্যে থেকে যাঁরা সাহায্য করেছেন সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।পরিশেষে তিনি সবাইকে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।





