গত ১৬ সেপ্টেম্বর (শনিবার) সিডনির লাকেম্বাস্থ একটি রেস্তোরায় বাংলাদেশের স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার উপর হস্তক্ষেপ এবং সুশীল সমাজের প্রতিক্রিয়া বিষয়ক অনুষ্ঠানে সিডনী প্রতিথযসা ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজের প্রিয় ব্যক্তিত্ব ডঃ কাউয়ূম পারভেজ। প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. ক. ম মোজাম্মেল হক। বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বনামধন্য লেখক, গবেষক প্রফেসর ডঃ আলী কাজী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিন বনিক।
প্রধান অতিথি মাননীয় মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. ক. ম মোজাম্মেল হক বক্তব্যের শুরুতেই সময়োপযগী এই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আয়োজক এবং সিডনী সুশীল সমাজের প্রতিনিধীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন যে, প্রফেসর ডঃ ইউনুসের শ্রমিক-ঠকানেরা মামলাকে কেন্দ্র কওে কয়েকজন বিশ^নেতাসহ অন্যান্য বুদ্ধিজীবিরা তার বিরুদ্ধে চলমান মামলা বন্ধ করার লক্ষ্যে যে বিবৃতি দিয়েছে তা আমাদের স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার উপর অযাচিত হস্তক্ষেপ ছাড়া আর কিছু নয়। তিনি বলেন বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। ত্রিশ লক্ষ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে।
বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন। তাছাড়া প্রফেসর ডঃ ইউনুসের বিরুদ্ধে মামলা করেছে তার কোম্পানীর শ্রমিকরা যাদের তিনি ঠিক মতো পাওনা পরিশোধ করেননি। প্রতিটি নাগরিকেরই বিচার পাওয়ার ব্যক্তি স্বাধীনতা রয়েছে এটি একটি নাগরিক অধিকার এবং কেউ-ই আইনের উর্দ্ধে নয়। স্বাধীন বিচার ব্যবস্থায় সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোন উপায় নেই। কোন মামলার মাধ্যমে কাউকে অযথা হয়রানী করা সরকারের কাজ নয়। তাছাড়া জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করে বিশ^ দরবারে একটি গুরুত্বপূর্ন সম্মানের জায়গায় পৌছেছেন।
তিনি সকল নাগরিকের সুরক্ষার জন্য, নায্য বিচারের জন্য বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন বর্তমান সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য এধরনের বিবৃতি সত্যিই দুঃখজনক। তিনি এই ধরনের বিবৃতির জন্য নিন্দা জ্ঞাপন করেন।
আলোচনায় অংশগ্রহন করে ডঃ আলী কাজী বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠান এবং সিডনীর ইতিহাসে এটাই প্রথম যা সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হল। তিনি বলেন মনের গভীর থেকে সাড়া দিয়েছে বলেই আমি আজকের এই আলোচনা সভায় অংশগ্রহন করেছি। আজ যদি আমি কথা না বলতাম বা প্রতিক্রিয়া প্রকাশ না করতাম, তবে আমি বিবেকের আদালতে দোষী সাব্যস্ত হতাম।
তিনি বলেন পৃথিবীতে বহুলোক শান্তিতে নোবেল পেয়েছে এবং তারা তাদের দেশের জন্য অনেক অবদান রেখেছেন। কিন্তু প্রফেসর ডঃ ইউনুসের মাধ্যমে জাতি কি পেয়েছে? আমাদের দুর্ভাগ্য যে, তার মাধ্যমে আমাদের স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার উপর অযাচিত হস্তক্ষেপ হয়েছে, ভিন দেশীরা সরকার প্রধানের কাছে বিচার বন্ধ করার জন্য বিবৃতি দিয়েছে, যা সত্যিই বিব্রতকরা। সরকার প্রধান দেশ পরিচালনা করেন, তিনি বিচার বিভাগ পরিচালনা করেন না, কারন বাংলদেশের বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন। আমি তার এই কাজের তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং স্বাধীন দেশের উপর যারা হস্তক্ষেপ করেছে তাদের এই প্রকার কাজ থেকে বিরত থাকতে অনরোধ জানান।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিশিস্ট সমাজ সেবক রবিন বনিক বলেন যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি, প্রয়োজনে আবার যুদ্ধ করবো তবু দেশের স্বাধীনতায় যে বা যারা হস্তক্ষেপ করবে তাদের বাংলার মাটিতে ঠাই দেয়া হবেনা।
সভাপতির বক্তব্যে ডঃ কাউয়ুম পারভেজ তার বক্তব্যে বলেন যে, আমাদের আবার ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, দেশ-বিদেশের সকল ষড়যন্ত্রের বিরূদ্ধে সকলকে রুখে দাঁড়াতে হবে, সকলের সজাগ দৃস্টি রাখতে হবে, কারন বাংলাদেশের বিরূদ্ধে দেশী-বিদেশীদের মাধ্যমে দেশকে অস্তিতীশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে এক হয়ে সকল ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করতে হবে। দেশকে বহিরাগতদের খবরদারীর হাত থেকে রক্ষা করে আমাদের প্রমান করতে হবে আমরা কারো রক্ত চক্ষুকে ভয় পাইনা।
ক্যানবারা থেকে আগত সমাজ-সেবক ও বিশিষ্ট সংগঠক মোহাম্মদ মুনির হোসেন বলেন, বিবেকের দংশনে এই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সকলকে আহবান জানাই এবং যারা এই মহতী অনুষ্টানে উপস্থিত হতে পারেন নাই, তাদেরকে ভবিষ্যতে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ন অনুষ্টানে জাতীয় স্বার্থে অংশগ্রহন করার আকুল আহবান জানাই।
কৃষিবিদ আব্দুল জলিল এই ধরনের মহতী অনুষ্টানের প্রতি একত্বতা প্রকাশ করে সকলকে ঐক্যব্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান।
সিডনী সুশীল-সমাজের প্রতিনিধীদের মধ্যে উক্ত বিষয়ের প্রতি একাত্বতা প্রকাশ এবং বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার উপর অযাচিত হস্তক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করার আহবান জানিয়ে বিশেষ বক্তব্য রাখেন মিসেস কবিতা পারভেজ, মোঃ সুজন প্রমুখ।
আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গিয়াস উদ্দিন মোল্লা, ছাত্রনেতা অপু সারোয়ার পল ডি গোমেজ, ফাহমিদা খন্দকার, নাইম সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। ডঃ তুষার দাস এবং প্রকৌশলী সাজ্জাদ সিদ্দিকী অনলাইনের মাধ্যমে অনুষ্টানের সফলতা কামনা করেন্। অনুষ্ঠানটি পরিচালানা করেন পল সি মধু। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)
বাংলাদেশের স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার উপর হস্তক্ষেপ এবং সুশীল সমাজের প্রতিক্রিয়া বিষয়ক আলোচনা সভা
আরও খবর

