বিদেশবাংলা: স্থানীয় সময় ১২ জুন (রোববার) সন্ধ্যায় সিডনির হার্স্টভিল সিভিক থিয়েটার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো বহুল প্রতীক্ষিত বাসভূমির ‘মাকে মনে পড়ে’ অনুষ্ঠান। বাসভূমির কর্ণধার আকিদুল ইসলাম ও শামীমা সুমীর সঞ্চালনায় কানায় কানায় হল ভর্তি দর্শকের উপস্থিতিতে মা’কে নিয়ে একটি আবেগময় সন্ধ্যায় সবাই আপ্লুত হয়েছে। সিডনির শুদ্ধধারার সকল সংগঠনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ও উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি আরো শুদ্ধ ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। মা দিবসে মা কে নিয়ে কবিতা গান নাচ শ্রুতিনাটক স্মৃতিচারণ দিয়ে অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়েছিলো।


আকিদুল ইসলামের ছোটো ছোটো গল্প দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য আদর্শ সংগঠনের ভূমিকা বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা বর্ণনা করেন। মাকে নিয়ে একটি আবেগময় গানের ভিডিও প্রদর্শিত হয়। গানটির কথা লিখেছেন আকিদুল ইসলাম ও কণ্ঠ দিয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম। ভিডিও প্রদর্শনের পরে স্মৃতিচারণ আখ্যানে জাহাঙ্গীর আলম ও আকিদুল ইসলামের চোখের জল দর্শক শ্রোতাদের আপ্লুত করলে এক আবেগময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও মা’কে নিয়ে স্মৃতিচারণকালে দর্শক-শ্রোতাসহ অনেকে আবেগে চোখের পানি সংবারণ করতে পারেননি। মা’কে নিয়ে বাসভূমির এই অনুষ্ঠানটি ছিল সিডনির সেরা অনুষ্ঠান।


সারস নামের বর্তমান প্রজন্মের এক বালকের বেহালায় জাতীয় সংগীতের মূর্ছনা দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর একে একে গান পরিবেশন করেন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের নিলুফা ইয়াসমিন, মারিয়া মুন, রাসেল ইকবাল, মধুমিতা সাহা ও ইভানা খালেদ। একক সংগীত এর পর চারু গোষ্ঠীর শিল্পী বৃন্দ আয়েশা কলি নামিদ ফারহান, আসিফ ইকবাল ও সুহৃদ সোহান হকের দলীয় পরিবেশনা সবাইকে আন্দোলিত করে।


অনুষ্ঠানে মা’কে নিয়ে গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করেন মিশা চৌধুরী, মৌসুমী সাহার নৃত্যাঞ্জলি ডান্স একাডেমি, শ্রেয়সী দাসের নেতৃত্বে নটরাজ ডান্স একাডেমির শিল্পীবৃন্দ। একটি বিশেষ নৃত্য পরিবেশন করেন তাফতুন নাইম নিতুর পরিচালনায় বাফার শিল্পীরা। বৃষ্টি হোসেনের স্মৃতিচারণ ও স্পনসরদের প্রতিক্রিয়া ও একাত্মতা আয়োজকদের উৎসাহিত করেছে নিঃসন্দেহে।


রতন কুন্ডুর নির্দেশনায় পলি ফরহাদ, শারমিন আক্তার ও রতন কুন্ডুর অংশগ্রহণে ঢাকাইয়া ভাষায় ‘আমি ফাইসা গেসি মাইনকার চিপায়’ শ্রুতিনাটক অনুষ্ঠানে একটি আলাদা মাত্রা সংযোজনে সক্ষম হয়েছে। তুমুল করতালির মাধ্যমে দর্শকরা এই হাসির নাটকটি উপভোগ করেন। এই অনুষ্ঠানে কোন বক্তব্য রাখা হয়নি। মিডিয়ার পক্ষ থেকে শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আবদুল মতিন সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।


অনুষ্ঠানে আগত সব অতিথিদের জন্য নৈশভোজের ব্যবস্থা করে লাকেম্বার ধানসিঁড়ি রেস্তোরা। এছাড়া ফাগুন হাওয়া সবাইকে দিয়েছে পানীয়, আমাদের কথার মিষ্টি, নৃত্যাঞ্জলি ড্যান্স একাডেমির পিঠা, মহিলা আওয়ামীলীগের চকলেট, শুভ সাথীর লাল গোলাপ ও নাহিদা সুলতানার মোমবাতি অন্যতম। শামীমা সুমীর গহনা স্পনসর করেছে আরোরা আরোরার ফাহমিদা শারমিন। আর শাড়ি স্পনসর করেছে শাড়ি- বি এর সামিয়া ইসলাম। এছাড়াও ‘অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ ফ্যাশন এসোসিয়েশনের’ (বাফা) পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে আগত সকল মা’কে উপহার দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সিডনির প্রয়াত সংগঠক ও সমাজকর্মী নুরুল আজাদের সহধর্মিণী সহ আরো চারজন মাকে বাসভূমির পক্ষ থেকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। অডিটোরিয়াম সজ্জার করেছে প্রত্যাশা ওয়ার্ল্ড। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট করেছে ইভেন এক্স। মিউজিক করেছে চারুর নামিদ ফারহান ও রাসেল। অনুষ্ঠানে প্রধান স্পন্সর করেছে প্রভাত ফেরী। বিশেষ স্পন্সর হিসেবে ছিল নূর বিউটিজ।

