বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬ | Thursday, July 16, 2026
Homeঅস্ট্রেলিয়াসিডনিতে অবস্থিত প্রথম স্মৃতিসৌধের সংস্কার, বিতর্কিত দ্বিতীয় স্মৃতিসৌধের অবমাননা

সিডনিতে অবস্থিত প্রথম স্মৃতিসৌধের সংস্কার, বিতর্কিত দ্বিতীয় স্মৃতিসৌধের অবমাননা

বিদেশবাংলা রিপোর্ট
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও পৃথিবীর সকল মাতৃভাষা সংরক্ষণের বার্তা নিয়ে ২০০৬ সালের ১৯শে ফেব্রুয়ারি সিডনির এসফিল্ড হেরিটেজ পার্কে প্রতিষ্ঠিত হয় পৃথিবীর প্রথম ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মৃতিসৌধ’। ২১ ফেব্রুয়ারি দিবসের শুরুতে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসস্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। এছাড়াও প্রতি বছর ২১ শে ফেব্রয়ারি বই মেলা, নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনকরে একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়া।

গত ৩১ জানুয়ারি (সোমবার) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মৃতিসৌধ পরিদর্শনে গিয়ে দেখি প্রখর রৌদ্র ও বৃষ্টিতে অনেক জায়গায় মরিচা পড়ে গেছে এবং রং উঠে যাওয়ায় লেখাগুলো অস্পষ্ট হয়ে আছে। স্মৃতিসৌধ সংস্কার ও রং করার বিষয় এসফিল্ড কাউন্সিলে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা স্পাভ ছবিসহ একটি ই মেইল আবেদন পাঠানোর অনুরোধ করেন।

মরিচা ধরে এবং রং উঠে গেছে

অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সংস্কার ও রং করার জন্য একটি পাঠানো হয়। কাউন্সিল থেকে ফিরতি ইমেইলে জানানো হয় যে, সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এই বিষয় অবগতি করা হয়েছে এবং আগামি ১০ কর্মদিবসের মধ্যে অগ্রগতি জানানো হবে (রেফারেন্স নং REQ2022-011078 তারিখঃ ১ ফেব্রুয়ারি)।

এছাড়াও এই বিষয় একুশে একাডেমি, অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি প্রকৌশলী আবদুল মতিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, একুশে একাডেমির পক্ষ থেকেও এসফিল্ড কাউন্সিলে যোগাযোগ করা হবে। তবে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সংস্কার ও রং করার জন্য আবেদন করায় তিনি ধন্যবাদ জানান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অপরদিকে ২০২১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বেলমোরের পীল পার্কে উদ্বোধন করা হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ। বাংলাদেশী কমিউনিটি ও ক্যান্টারবারী- ব্যাংক্সটাউন সিটি কাউন্সিলের উদ্যোগে এই স্মৃতিসৌধটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৯ সালের ১৩ ই অক্টোবর ফান্ড রেইজিং ইভেন্টের মাধ্যমে কমিউনিটি থেকে প্রায় ৩৫ হাজার ডলার অনুদান সংগ্রহ করা হয়। এছাড়াও বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম ১০ হাজার ডলার অনুদান প্রদান করেন। কিন্তু বিতর্কিত স্মৃতিসৌধ নির্মাণে সর্বমোট কত টাকা ব্যয় হয়েছে কাউন্সিলের পক্ষ থেকে তার সঠিক তথ্য জানানো হয়নি। খরচের বিষয় জানতে চাওয়া হলে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ কমিটির অন্যতম সদস্য সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মাদ জামান টিটু এ প্রতিবেদকে বলেন, প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণীর দৈনিক প্রথম আলো’র একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “গত বছর প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার ব্যয়ে এ স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।

দ্বিতীয় স্মৃতিসৌধে সাদা রং লাগানোর পর

সিডনির দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ উদ্বোধনের পর বাংলাদেশি কমিউনিটিতে এর ডিজাইন নিয়ে সমালোচনার ঝড় তুলে এবং প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধন ও কমিউনিটি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়। অনেকেই বলছেন, ফান্ডরেইজিং অনুষ্ঠানের সময় একটি ডিজাইনটি দেখিয়ে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে কিন্তু নির্মাণ করা হয়েছে অন্য ডিজাইনে। যাহা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কোন আদল বহন করেনা। এই স্তম্ভ নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করবে।

এদিকে গত ১ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) কে বা কারা রাতের আঁধারে পিল পার্কে নির্মিত বিতর্কিত দ্বিতীয় স্মৃতিসৌধে সাদা রং লাগিয়ে দেয়। এঘটনা অত্যন্ত দুঃখজন ও নিন্দনীয়। যারাই এ কাজ করেছেন তারা ভালো কাজ করেননি। ভবিষ্যতে যেন এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা না ঘটে। এমন অবমাননাকর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েন ক্যান্টারবারী- ব্যাংক্সটাউন সিটি কাউন্সিলের সিটি কাউন্সিলের মেয়র খাল আশফোর ও সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মাদ জামান টিটু। কাউন্সিলের পক্ষ গতকাল ২ ফেব্রুয়ারি স্মৃতিসৌধটি পরিস্কার করা হয়।

আরও খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

পপুলার পোস্ট

নতুন কমেন্টস